Tuesday, 19 January 2016

সময়

সম্পর্ক কেমন যেন কাঁচের বাসনের মত
ঠুনকো, অস্থায়ী বড় 
হালকা হাওয়ায় বা আঙুলের আলতো চাপে ভঙ্গুর 
সময়ের সমীকরণে বদলে বদলে যায় 
এদিকের ঘুঁটি ওদিকের হাতের বাধ্য হয়
মাত্সর্য বিষে জ্বলে যায় মনের শরীর 
গর্জে ওঠা হুঙ্কারে ঢাকে অবচেতনের কান্না 
প্রতিবাদে প্রতিরোধে মুহূর্তে চুরমার 
জেগে ওঠা ব্যথা ধীরে শীতলের পথ ধরে 
স্মৃতি ফিরে আসে তারপর 
থেকে থেকে ডাক দিয়ে যায় 
বিদায়ী সময় চায় একটু আবেগ
ভাঙা কাঁচ জোড়া লাগে সময়ের টানে।


Thursday, 5 November 2015

রেসিপি

অনেকদিনের পুষে রাখা রাগ এক চামচ
না পাওয়া যন্ত্রণা সম পরিমানে
দু-এক টুকরো তাচ্ছিল্য
বড় এক চামচ ছোঁয়াচে কানাকানি
আর একটু স্রোতে গা ভাসানো আনন্দ
তোমার অসহনীয়তার কাপ রেডি 

Monday, 12 October 2015

পুজোয় বাড়ি

আমার বাড়ি কলকাতা নয়,
শিবপুর আমার বাড়ি,
হাওড়া স্টেশন নাম শুনেছ?
ঠিক পাশেতে তারই।

পাঁচশো বছর বটগাছটার
শহর তারও বেশি,
বিদেশ বিভুঁই  ছুঁয়ে এসেও
মনটা ভীষণ  দেশী।

ওপার থেকে ডাকলে যেমন
এইপারে যায় শোনা,
রাতের আলোয় সেতু দুখান
রেশম দিয়ে বোনা।

গঙ্গা যেমন ওদিক দিয়ে
হাওয়ায় টানে মন,
এপার দিয়েও বইতে থাকে,
দুই তীরে বন্ধন।

উত্তরে সেই মোহনবাগান,
এই পারেতেও তাই,
কালীঘাট আর ভবানীপুরের
যমজ যেন ভাই।

কোথাও কোনো অমিল তো নেই,
আত্মাদুটোও সেই,
শহরভাগের তর্জমা তাই
এসবখানে নেই।

শহর দিয়ে যায় না চেনা
কার যে কোথায় ঘর,
কার যে কোথায় হারিয়ে পাওয়া,
টুকরো বার-অন্দর।

পুজো আসে, মাতিয়ে আসে,
ভরিয়ে দিয়ে বুক,
প্রবাস থেকে দৌড়ে এসে
বাড়িই আমার সুখ।

বাড়ি শুধু বাড়ি তো নয়,
মনের কোনের বাসা,
বাড়ি আমার অনেক বেশি
আবেগ দিয়ে ঠাসা।

পুজোর জোয়ার জাগলে মনে
বাড়ির কথা আসে,
বাড়ির ছায়া ভাসতে থাকে
নিঃশ্বাসে প্রঃশ্বাসে।

বাড়ির কোনো দেশ হয় না,
হয় না কোনো রাজ্য
এসব আমরা বানাই কারণ
মানুষ যে বিভাজ্য।

বাড়ি আমার, বাড়ি তোমার,
পুজোয় বাড়ি যাওয়া,
অনেক কমের বিনিময়ে
অনেকখানি পাওয়া।

পুজোর টানে গা ভাসিয়ে
দিই যখনি পাড়ি,
যেইখানেতে বাংলা শুনি
সেইখানে মোর বাড়ি।