Tuesday, 10 November 2015

কালী

শ্যামলা মেয়েটা হেঁটে যাচ্ছে,
ছিন্ন শরীর চারিদিকে,
আঁধার অস্থিরতার,
রক্তাভ রাত আজ ফিকে

পাগলিনী আলুথালু বেশে,
খসছে ছিন্ন বস্ত্র তার,
এলো চুলে সিঁদুরের রেখা
মিশেছে শ্মশান ঘর বার
দাউ দাউ আগুনের শিখা
জ্বালিয়ে দিয়েছে গ্রামগুলো
লেলিহান রক্তাভ আঁচে
ধিক ধিক কাটা আঙ্গুলও

পুড়িয়েছে যারা চারিদিক,
হত্যা করেছে জনে জনে,
তাদেরই মধ্যে একজন
লুকিয়ে ছিল কোনোখানে
পাগলিনী দেখতে পেয়েই
ছুটে গেল তার দিকে ধেয়ে
হাতে তুলে নিল হাঁসদা
আঁধার আকাশ-পটে মেয়ে

পাগলিনী উন্মাদনায়
হেসেই উঠছে খালি খালি
ঘর স্বামী সন্তান হারা
বিবস্ত্রা দেবী যেন কালী

Thursday, 5 November 2015

রেসিপি

অনেকদিনের পুষে রাখা রাগ এক চামচ
না পাওয়া যন্ত্রণা সম পরিমানে
দু-এক টুকরো তাচ্ছিল্য
বড় এক চামচ ছোঁয়াচে কানাকানি
আর একটু স্রোতে গা ভাসানো আনন্দ
তোমার অসহনীয়তার কাপ রেডি 

Monday, 12 October 2015

পুজোয় বাড়ি

আমার বাড়ি কলকাতা নয়,
শিবপুর আমার বাড়ি,
হাওড়া স্টেশন নাম শুনেছ?
ঠিক পাশেতে তারই।

পাঁচশো বছর বটগাছটার
শহর তারও বেশি,
বিদেশ বিভুঁই  ছুঁয়ে এসেও
মনটা ভীষণ  দেশী।

ওপার থেকে ডাকলে যেমন
এইপারে যায় শোনা,
রাতের আলোয় সেতু দুখান
রেশম দিয়ে বোনা।

গঙ্গা যেমন ওদিক দিয়ে
হাওয়ায় টানে মন,
এপার দিয়েও বইতে থাকে,
দুই তীরে বন্ধন।

উত্তরে সেই মোহনবাগান,
এই পারেতেও তাই,
কালীঘাট আর ভবানীপুরের
যমজ যেন ভাই।

কোথাও কোনো অমিল তো নেই,
আত্মাদুটোও সেই,
শহরভাগের তর্জমা তাই
এসবখানে নেই।

শহর দিয়ে যায় না চেনা
কার যে কোথায় ঘর,
কার যে কোথায় হারিয়ে পাওয়া,
টুকরো বার-অন্দর।

পুজো আসে, মাতিয়ে আসে,
ভরিয়ে দিয়ে বুক,
প্রবাস থেকে দৌড়ে এসে
বাড়িই আমার সুখ।

বাড়ি শুধু বাড়ি তো নয়,
মনের কোনের বাসা,
বাড়ি আমার অনেক বেশি
আবেগ দিয়ে ঠাসা।

পুজোর জোয়ার জাগলে মনে
বাড়ির কথা আসে,
বাড়ির ছায়া ভাসতে থাকে
নিঃশ্বাসে প্রঃশ্বাসে।

বাড়ির কোনো দেশ হয় না,
হয় না কোনো রাজ্য
এসব আমরা বানাই কারণ
মানুষ যে বিভাজ্য।

বাড়ি আমার, বাড়ি তোমার,
পুজোয় বাড়ি যাওয়া,
অনেক কমের বিনিময়ে
অনেকখানি পাওয়া।

পুজোর টানে গা ভাসিয়ে
দিই যখনি পাড়ি,
যেইখানেতে বাংলা শুনি
সেইখানে মোর বাড়ি।



Monday, 7 September 2015

एहसास

हम गरीबो को इतनी नसीब कहाँ
के लोग पूछे बिना ही हाज़िर हो जाये
बात ज़ुबान पे आके रुकी हो फिर भी
पूछे बिना हमे बताया कहाँ जाये!
थोड़ा दर्द दिखा मुझे इन गलियों में
जो रास्ता दूर से गुज़रती हुयी दिल तक पहुँचती है
दिख रहा है साफ़ आइनों की तरह
दिखाना चाहते हो खोल के या छुपाके इंतज़ार करें?
बोलते हम भी थे बहत एक ज़माने में
आँखों के आइना आज हमे बेज़ुबान बना दिया
बात कुछ भी हो, ग़म छुपाते है
दोस्त बैठा हो जब सुनने को तैयार, उसे ऐसे जाने देना ज़ुल्म कहलाते है
नाम न पुच्छू तो ही बेहतर है इन हालातो में
दीवारों की बेवफाई को नाम न दूँ किसी इंसान का
ज़िन्दगी देती कितनी सी है हम दीवानो को
लुटाते है हम उससे काफी ज़्यादा अफ़्सानो की चाहत में
ग़म छुपा के न जियो दोस्त मेरे
ग़म भुलाके न जियो
खुशबू-ए-दर्द सिनो को महकाते रहे
ग़म को जी भर के जियो


Monday, 20 July 2015

কেনা বেচা

অস্থিরতার চোখ দূরে  খোঁজে ঘর 
বিপন্ন জীবন আজ এলোমেলো দিনে 
বাইরের আঙুলেরা ছুঁয়েছে অন্তর 
পুরনো সুখকে বেচো দুঃখকে কিনে 


Thursday, 4 June 2015

সে রাত শুধু

অন্য হাওয়ায় নাম লিখব বলে
অনেক দূরে এলাম এবার চলে
সময় যখন কাঁচা মাটির মত
ইচ্ছেগুলো পাকিয়ে যেন সুতো
মন-পূরণের স্বপ্নগুলো ধরে
সময় আবার যাচ্ছে এখন সরে
সাধ হয় তাদের নামগুলো দিই সোনা
অনেক দিনের আদর দিয়ে বোনা
বিকেলবেলার নরম রোদের টানে
আশকারারা সময় ডেকে আনে
সেই সময়ে ভিজিয়ে নিয়ে হাত
ডাকিয়ে নিলাম টুকরো চাঁদের রাত'
সে রাত থাকুক দূরের শঙ্খচিলে
সে রাত শুধু তোমায় আমায় মিলে
সে রাত জাগুক ভোরের আবছা নীলে
সে রাত শুধু তোমায় আমায় মিলে 

Friday, 23 January 2015

ঘর

একটা দেওয়াল জুড়ে ছবি,
সাদা-কালো মন ছেয়ে আছে-
টেবিলের পাশে গন্ধ-বাতি,
আঁধারে ছায়ার দেহ নাচে।

রান্নাঘরের টুং-টাং,
নতুন চাদর পাতা ঘরে,
ফুলদানিতে জারবেরা
পুরিয়া বাজছে মৃদুস্বরে।

পাটভাঙা পাজামা-পাঞ্জাবি,
শাড়ির আকাশ-ঘন মন,
বাতাসে অল্প মাদকতা,
অবসরে সুখী গৃহকোণ।

বন্ধুরা নিমন্ত্রিত সব,
একে একে গাড়ির মিছিল,
শহুরে শৌখিনতা
মনের ভেতর গাংচিল।

দুটি মন বেঁধেছে সংসার,
দুটি হাতে হাত ধরে থাকা,
দুটো রাত কৌতুহলী,
দুটো দিন একেবারে একা।

অনেক বসন্ত হলে পার,
এই ঘরে দুই বুড়ো-বুড়ি,
অনেক ধুলোর মাঝে বলা-
চল আবার ঘর শুরু করি।